Monday, February 12, 2024

The Measures Taken || Brecht's "Lehrstücke" (শিক্ষামূলক) Play

“Die Maßnahme” (The Measures Taken) নাট্যকার: বার্টল্ট বেখট || শাহমান মৈশান কৃত বাংলা অনুবাদ "সিদ্ধান্ত"

“Die Maßnahme” (বাংলা উচ্চারনে “ডি মাস-না-মে”) নাটকটিকে "Lehrstücke" (শিক্ষামূলক) নাটক বলা হয়ে থাকে। কারণটা খুবই স্পষ্ট - এখানে কমিউনিজমের একটি বিশেষ শিক্ষা দেয়া হয়েছে যা এক্টর-রা অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেরা শিখবেন এবং দর্শকদের শেখাবেন।   

ঘটনার প্রেক্ষাপট: চীনে কমিউনিষ্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে সোভিয়েট ইউনিয়ন (রাশিয়া) থেকে চার-সদস্যের একদল আন্দোলন-উষ্কানিদাতা পাঠানো হয়েছিলো। তারা কোন পরিস্থিতিতে তাদের সাথে পরে যোগদান করা এক নবীন কমরেডকে হত্যা করতে বাধ্য হয়, তারই বর্ননা এই নাটকে। এই নাটকের মূল শিক্ষা: সকলের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত কারো একজনের একক সিদ্ধান্তের চেয়ে অনেক বেশী কার্যকর।

মস্কোর চারজন কমিউনিস্ট আন্দোলনকারী চীনে একটি সফল মিশন সম্পন্ন করে মস্কোতেই ফিরে এসেছেন এবং একটি কেন্দ্রীয় কমিটি (যাকে দ্য কন্ট্রোল কোরাস বলা হচ্ছে) তাদের প্রচেষ্টার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছে। তবে চারজন আন্দোলনকারী কেন্দ্রীয় কমিটিকে পাশাপাশি এও জানায় যে, মিশনের সময় তারা একজন তরুণ কমরেডকে হত্যা করতে বাধ্য হয়েছিল। এই দূর্ঘটনার জন্য মিশন-সদস্যরা কমিটির কাছে তাদের কর্মকান্ডের বৈধতার ব্যপারে সিদ্ধান্ত চান। একথা শুনে কেন্দ্রীয় কমিটি (দ্য কন্ট্রোল কোরাস) আদেশ দেয় যে, যতক্ষণ না চারজন আন্দোলনকারী যুবক কমরেডের মৃত্যুর ঘটনাকে পুনরায় অভিনয় করে দেখাবে, ততক্ষন পর্যন্ত কমিটির রায় স্থগিত থাকবে।

নাটকের এই অংশে আমরা দেখি চারজন আন্দোলনকারী অভিনয় করে দেখাচ্ছেন যে, কীভাবে চীনা শ্রমিকদের শিক্ষিত ও সংগঠিত করার জন্য তাঁদেরকে মিশন-সদস্য হিসাবে পাঠানো হয়েছিল। ঘটনাক্রমে, সীমান্তের একটি কমিউনিস্ট পার্টির দপ্তরে (ওই দপ্তরটি চীনের সীমান্তে পৌঁছানোর আগে শেষ পার্টি-অফিস।) তাদের সাথে এক তরুণ কমরেডের সাথে পরিচয় হয়, যিনি উৎসাহ-ভরে মিশন-সদস্যদের গাইড হিসাবে তাদের সঙ্গী হবার প্রস্তাব দেন। এখানে গুরুত্মপূর্ন বিষয় হলো যে, মিশন-সদস্যদের পরিচয় কঠোরভাবে গোপন করতে হবে কারণ চীনে শ্রমিকদের শিক্ষিত করা এবং সংগঠিত করা - দু’টাই অবৈধ। সীমান্তের ওই পার্টির দপ্তরের পরিচালক নিজেই চার মিশন-সদস্য এবং ওই তরুণ কমরেডকে তাদের আসল পরিচয় মুছে ফেলতে সাহায্য করেন। তারা সকলেই ছদ্মবেশ ধরলেন যাতে তাদের চীনা বলে মনে হয়। তাদের কমিউনিস্ট পরিচয় এবং মিশনের উদ্দ্যেশ্য দু’ই-ই কঠোর গোপনীয়তায় বজায় থাকে। মিশন-সদস্যরা নিজেরাও জানে যে, কখনো যদি তাদের পরিচয় প্রকাশ পায়, তবে কর্তৃপক্ষ সমগ্র আন্দোলন আক্রমণ করবে; তখন শুধু চার আন্দোলনকারী মিশন-সদস্যই নয়, এর সাথে সাথে ওই তরুণ কমরেডের জীবনও বিপন্ন হবে। চার আন্দোলনকারী মিশন-সদস্য এবং তরুণ কমরেড সবাই এই শর্তে একমত হয়।

কিন্তু, একবার চীনে পৌঁছাবার পর চীনা কমিউনিস্ট পার্টির অন্যায় ও নিপীড়নের দৃশ্য তরুণ কমরেডকে উত্তেজিত করে ফেলে। তিনি তার আবেগকে ধরে রাখতে পারলেন না এবং দ্রুতই তিনি তার চারপাশের যে ভুলগুলি দেখেছেন তা সংশোধনে উঠে-পড়ে লাগলেন। সমস্যা শুরু হলো তখনই। নিপীড়িত জনগন কীভাবে নিজেরা নিজেদের সাহায্য করবে তা শেখাতে তিনি বিচক্ষণতা দেখাতে পারলেন না। বরং ছোট-ছোট নিপীড়নকারীরা কিভাবে নিজেরা সংযত আচরন করে বিপ্লবের বৃহত্তর উদ্দ্যেশ্যকে হাসিল করতে পারে সেই কৌশল শেখানোর দক্ষতাও তার ছিলনা। ফলস্বরূপ, তিনি নিজেই তার নিজের ছদ্মবেশ খুলে ফেললেন এবং একই সাথে চার মিশন-সদস্যদের পরিচয়ও উন্মোচিত হয়ে গেলো। ঠিক যখন শ্রমিকদের মধ্যে দাঙ্গা এবং বিপ্লবী বিদ্রোহ শুরু হয়, তখনই এই হঠকারী তরুণ কমরেডকে চিহ্নিত করে তারঁ পরিচয় প্রকাশ করে দেওয়া হয়। চীনা কর্তৃপক্ষ তরুণ কমরেড ও তার বন্ধুদের খুঁজতে থাকে। তরুণ কমরেড তারপরও যখন পার্টির পলিসির বিরুদ্ধে চিৎকার করছিল, তখন এক মিশন-সদস্য তাকে মাথায় আঘাত করে দূরে কোন এক স্থানে নিয়ে যায়। তাকে নিয়ে এখন কি করা যায় তা নিয়ে মিশন-সদস্যরা তর্ক-বিতর্ক করতে থাকেন।

মিশন-সদস্যদের প্রথম যুক্তি, যদি তারা ঐ তরুণ কমরেডকে পালাতে সাহায্য করে তবে তারা নিজেরাই শ্রমিক-বিদ্রোহে আর সাহায্য করতে পাবেনা। এবং তখন তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে পালানোই প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে। দ্বিতীয় যুক্তি, যদি ঐ তরুণ কমরেডকে ফেলে রাখা হয় এবং সে যদি ধরা পড়ে তবে সে তার অজান্তেই আন্দোলনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে বসতে পারে। চার মিশন-সদস্য সবশেষে যে “তাকে অবশ্যই হারিয়ে যেতে হবে, এবং সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যেতে হবে/ কারণ আমরা তাকে আমাদের সাথে নিতে পারি না বা ছেড়ে যেতে পারি না।” তারা সর্বসম্মতিক্রমে তরুণ কমরেডকে চুনের গর্তে ফেলে পুড়িয়ে ফেলতে সিদ্ধান্ত নেয়। এবং এই সিদ্ধান্তে তারা এ ব্যাপারে তরুণ কমরেডেরও সম্মতি চায়। তরুণ কমরেড বিশ্ব বিপ্লবের স্বার্থে এবং সাম্যবাদের স্বার্থে তার ভাগ্য মেনে নিতে সম্মত হন এবং শেষপর্যন্ত নিজেই নিজের মৃত্যুতে সহায়তা করেন। চার মিশন-সদস্য শেষ পর্যন্ত ঐ তরুণ কমরেড-কে গুলি করে তার লাশ চুনের গর্তে ফেলে দেয় যাতে তার দেহাবশেষও খুঁজে পাওয়া না যায়। চার মিশন-সদস্য তাদের অভিনয় শেষ করার পর কেন্দ্রীয় কমিটি তাদের আশ্বস্ত করে যে, তারা সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিল। সফল মিশন শেষ করে আসা চার আন্দোলনকারীকে কেন্দ্রীয় কমিটি এই বলে আস্বস্ত করেঃ "“মার্কসবাদের শিক্ষা এবং কমিউনিজমের মাহাত্ম্য:আপনারা সঠিকভাবেই প্রচার করতে পেরেছেন।" বৃহত্তর সাফল্যের জন্য যে ত্যাগ দরকার, তাও ঐ কমিটি চিহ্নিত করে এই বলেঃ “আপনাদের প্রতিবেদনটি প্রমান করেছে, আমাদের পৃথিবীকে পরিবর্তন করতে হলে কতটা আত্মত্যাগ প্রয়োজন।”

* এখানে "সাম্যবাদের এবিসি" নামে নিকোলাই বুখারিনের জনপ্রিয় বইয়ের রেফারেন্স দেয়া হয়েছে।

No comments:

Post a Comment